প্রত্যাহারের দাবি প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রফতানিকারকদের

বর্ধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কে পণ্য রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর বর্ধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।

প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর বর্ধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি। গতকাল রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বাপা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বর্ধিত ভ্যাটের কারণে পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে রফতানি বাজার হারানোর শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের শিল্পটি এদেশের শ্রমজীবী, প্রান্তিক কৃষক ও নিম্ন আয়ের লাখ লাখ মানুষ নিয়ে গড়ে উঠেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় সাড়ে সাত লাখ লোকের কর্মসংস্থান রয়েছে এ শিল্পে। অথচ এ শিল্পে ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এ শিল্পের ওপর বর্ধিত ভ্যাট খুবই অযৌক্তিক। যে হারে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য বিস্কুট, কেক, জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। আর ভোক্তারা ক্রয় করতে না পারলে এ শিল্পের অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে এ শিল্পে নিয়োজিত আড়াই লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। নতুন করে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করলে পুরো খাত মুখ থুবড়ে পড়বে। এছাড়া পরিচালন ব্যয় বাড়লে রপ্তানিতে বাজার হারানোর শঙ্কা তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে বড় ধস নামবে। দেশের খেটেখাওয়া মানুষ এখন ৫-১০ টাকা খরচ করে যে পণ্য কিনতে পারছে সেটি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তারা কীভাবে বাঁচবে। প্রশ্নগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে। এভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স বৃদ্ধি করলে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের দাম বাড়াতে হবে, নয়তো প্যাকেটে পরিমাণ কমাতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘‌আগামী সাতদিনের মধ্যে এ ভ্যাট কমিয়ে আগের মতো করতে হবে, অন্যথায় আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব। যদি এ সময়ের মধ্যে ভ্যাট কমিয়ে আনা না হয় তাহলে স্বেচ্ছায় কারখানা বন্ধ করে দেব এবং সচিবালয়ের সামনে আমরা অবস্থান নেব। ভ্যাট বৃদ্ধি করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। আগে যে ভ্যাট চলমান ছিল সেখানে ফিরে যান। তাহলে আমরা ব্যবসা করতে পারব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারব। জুলাই বিপ্লবের পর যে বৈষম্য দূর করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে আর কোনো ধরনের বৈষম্য চাই না।’

বাপার সভাপতি ও সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম বলেন, ‘‌আমরা এমন একটি খাত নিয়ে ব্যবসা করি যার সঙ্গে সরাসরি শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে প্রান্তিক কৃষক জড়িত। সরকার থেকে বলা হচ্ছে, ভ্যাট বৃদ্ধি করলে খুব একটা প্রভাব পড়বে না, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বাপার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক কৃষকের আম, টমেটো, আনারস, কলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুস, ড্রিংকস, আচার, সস তৈরি করি। টমেটো, আম, আনারস, পেয়ারা ও কলার পাল্প পণ্যগুলোর ওপর মূসক ৫% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রান্তিক চাষীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেসার্স বনফুল অ্যান্ড কোং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইকতাদুল হক, বাংলাদেশ বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, আকিজ গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ জহিরুল আলম, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিইও পারভেজ সাইফুল ইসলাম, এসিআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী, এসএমসি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ নাসিরসহ কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাতের বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও